বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের "ইন্টার্নশিপ-২০২৬" কর্মসূচির উদ্বোধন।


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,
ময়মনসিংহ, ০৬ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ (জুলাই-ডিসেম্বর/২০২৪) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের "ইন্টার্নশিপ-২০২৬" কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BMDA)-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন 'বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট' এর মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঁইয়া।
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মজিদ এর সভাপতিত্বে এবং সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী প্রফেসর নীলিমা দাস এবং কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহকারী প্রফেসর সাহাবুদ্দিন আহমেদের যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল, ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মোঃ রোস্তম আলী, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ। এছাড়াও ৪জন ইন্টার্নী তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন বলেন, "আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং টেকসই কৃষির উন্নয়নে কৃষি প্রকৌশলীদের ভূমিকা অপরিসীম। এই ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে, যা তাদের কর্মজীবনে অত্যন্ত সহায়ক হবে।" তিনি বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার, কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষিই হবে বাংলাদেশের আগামী অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। সুতরাং আমাদেরকে এই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষিবান্ধব যে কর্মসূচিগুলো, কৃষি এবং কৃষকের উন্নতির যে কর্মসূচি—সেগুলোর জন্য আমাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী এবং আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী—সবাইকে তাদের মেধা-মনন দিয়ে, তাদের গবেষণালব্ধ কাজ দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। আমি মনে করি, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যতগুলো সেক্টর রয়েছে, তার মধ্যে আমাদের কৃষি সেক্টরই সবচেয়ে বেশি সফল। তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয় আমাদের এই প্রিয় ক্যাম্পাস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ইন্টার্নশীপে অংশগ্রহণকারী সকলের সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে অনুষদের গৌরবময় ৬৩ বছরের যাত্রার কথা স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন যে বাকৃবিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সকল অনুষদের সকল ছাত্র-ছাত্রীই ইন্টার্নশীপ করার সুযোগ পায়, এটা একটা অনন্য অর্জন। পূর্বে দুইটা অনুষদ এর আওতায় থাকলেও বর্তমানে আমার দায়িত্বপালনকালীন সময়ে বাকী ৪টি অনুষদে এই ইন্টার্শীপ প্রোগ্রাম এখন চলমান রয়েছে। তিনি বলেন যে, "বি.এস.সি. এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বি.এস.সি. ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বি.এস.সি. বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য। এই ইন্টার্নশিপ তাদের পেশাদারিত্ব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে আরও শাণিত করবে।" তিনি এই প্রোগ্রামের ব্যাপ্তিকাল পর্যায়ক্রমে ৬ মাসে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিনা (BINA)-এর মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঁইয়া উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইন্টার্নদের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই অনুষদ সফলতার সাথে প্রতিষ্ঠার গৌরবময় ৬৩ বছর অতিক্রম করছে এবং ২০২৬ সনে ৩ মাস মেয়াদি এই ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামে ১৮০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সংশ্লিষ্ট অনুষদের সকল পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা প্রধান/ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃ্ন্দ উপস্থিত ছিলেন।

